মা

                                             মা'র হাতের রান্না

ছোটবেলায় মা'র হাতে রান্না করা মুরগির মাংস, রুই/কাতলা মাছের দোপেয়াজা, কড়া করে ভাজা পুঁটিমাছ, মসুর ডালের চচ্চড়ি দিয়া ভাত খাইতে বেশি ভাল লাগতো। মাসে হয়ত দুই-তিনদিন মুরগি/গরু'র মাংস পাওয়া যেত তাও ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে যদি বাড়িতে মেহমান এর আগমন ঘটতো। তাই মেহমান আসলে আমি খুব খুশি থাকতাম। হেব্বি একটা মুডে থাকতাম। আর যে মেহমান বেশি কইরা মিষ্টি নিয়ে আসত তাদের কে আরো বেশি ভাল্লাগত!
দোয়া করতাম, যাতে বাড়িতে দুই-দিন পরপর মেহমান আসে।আমার আব্বা-আম্মাও মেহমানদারি করতে পছন্দ করতেন। নতুন আত্নীয়ের বাড়ি থেকে মেহমান আসলেত হুলস্থুল আয়োজন থাকত। আগে মেহমানকে খাওয়াইয়া তারপর আমরা খাইতাম। মেহমান তৃপ্তি সহকারে খাচ্ছে এটা দেখতে ভাল লাগত! মেহমান এর সংখ্যা বেশি হলে তারা খাওয়ার পর মাঝেমধ্যে আমাদের ভাগ্যে জুটত মুরগির মাংসের সাথে দেয়া আলুর টুকরা আর ঝোল, সাথে মুরগির ইয়া লম্বা-লম্বা ঠেং(যা কিনা কেউ খাইতে চায়না) আর গিলা-কলিজা। শিল-পাটাতে বাটা মশলা দিয়ে রান্না করা মুরগি/গরু'র মাংস স্বাদ ও গন্ধে যে কি অতুলনীয় তা যে খাইছে সেই বুঝতে পারবে! পাশের বাড়িতে মুরগি'র মাংস রান্না হলে আমাদের বাড়ি থেকেও এর ঘ্রাণ পাওয়া যেত! বুঝতে অসুবিধা হইতনা, মেহমান আসছে, হয়ত বড় রাতা মোরগ টা জবাই করা হইছে।বর্তমানের প্যাকেটজাত মসলা দিয়ে তৈরি রান্নার মধ্যে সেই টেস্ট পাওয়া যায় না। মেহমান ছাড়াও এই টাইপের ভাল রান্নাবান্না হত, তবে সেটা কালেভদ্রে।
মেহমান আসলে বাড়ির বড় মুরগি গুলো গুলো খুব আতংকের মধ্যে থাকত। টেনশনে থাকত মেহমানের আপ্যায়নে তাদের মধ্যে কাকে জানি বলি হতে হয়! মেহমান আসলে মুরগি ধরার অর্ডার আসত আম্মার কাছ থেকে। মুরগি দৌড়াইয়া জ্বাল এর ফাঁদ এর মধ্যে ফালাইয়া বিশেষ কায়দায় ধরা হত। আমার মুরগি ধরতে ভালই লাগত। আমার তিন তিনটা দুলাভাই, তারা বাড়িতে বেড়াতে আসলে বড় রাতা মোরগ জবাই হত। এই মোরগ গুলো জামাইদের জন্যই বিশেষ আদর-যত্ন করে বড় করা হত। তাদের এই শাহী আপ্যায়ন দেইখা আমিও স্বপ্ন দেখতাম, "বড় হইয়া আমিও জামাই হমু!"

Comments

Popular posts from this blog

Git

First-Time Git Setup

Git Install